একটা অ্যাপের ভাবনা থেকে Play Store-এ ওঠা পর্যন্ত দূরত্বটা যত বড় মনে হয়, তত বড় না। পাঁচটা ধাপ, আর প্রতিটার শেষ পরিষ্কার। ধাপগুলো জানা থাকলে পুরো ব্যাপারটা সাধারণ হয়ে যায়।
আমরা এভাবেই একটা Android অ্যাপকে কাঁচা ভাবনা থেকে লাইভ লিস্টিং পর্যন্ত নিয়ে যাই, React Native আর Firebase দিয়ে, যেভাবে আমাদের নিজেদের রক্তদানের অ্যাপ RaktoBondhu বানিয়েছি।
১. ভাবনাটা দাঁড় করানো
কোড লেখার আগে ঠিক করি অ্যাপটা কার জন্য, আর কোন একটা কাজ ভালোভাবে করতেই হবে। বেশিরভাগ প্রথম ভার্সন অনেক বেশি কিছু করতে চায়, আর সেই কারণেই দেরিতে আসে। কমিয়ে আনলেই অ্যাপটা আসল মানুষের সামনে যায়, আর কাজের প্রতিক্রিয়া শুধু ওখান থেকেই আসে।
২. স্ক্রিন ডিজাইন
তারপর একটা একটা করে স্ক্রিন, আর তাদের মাঝের পথ। অ্যাপের চেহারাটা এখানেই দাঁড়ায়, আর মত বদলানোর সবচেয়ে সস্তা জায়গাও এটাই। এখানে নতুন করে ভাবলে একটা আঁকার খরচ, বানানোর পরে ভাবলে কয়েক দিনের।
৩. বানানো
আমরা React Native দিয়ে বানাই, তাই একটা কোডবেস থেকেই Android অ্যাপ তৈরি হয়। পেছনে Firebase থাকে অ্যাকাউন্ট, ডেটা আর যেসব জিনিস লাইভ আপডেট হতে হয় তার জন্য। স্ক্রিন শেষ হওয়ার সাথে সাথে আপনি দেখতে পান, একেবারে শেষে না।
৪. আসল ডিভাইসে পরীক্ষা
কাগজে-কলমে চললেই হয় না। আমরা আসল Android ফোনে পরীক্ষা করি, তার মধ্যে একটা পুরোনো ধীর ফোনও, কারণ বাংলাদেশে বেশিরভাগ মানুষের হাতে ওটাই। ডেভেলপারের মেশিনে চলেছে বলে কিছু ছাড়া হয় না।
৫. Play Store-এ জমা দেওয়া
স্টোর লিস্টিং, স্ক্রিনশট, প্রাইভেসি পলিসি, সাইন করা রিলিজ, তারপর Google-এর রিভিউ, যেটায় কয়েক দিন লাগে আর মাঝেমধ্যে প্রশ্ন নিয়ে ফেরত আসে। ডেভেলপার অ্যাকাউন্ট থাকে আপনার নামে, তাই অ্যাপটা আপনার, আর আমাদের ছাড়াই আপডেট পাবলিশ করতে পারবেন।
পথটা আমরা নিজেরা হেঁটেছি
RaktoBondhu আমরা বানিয়েছি আর এই প্রতিটা ধাপের ভেতর দিয়ে নিয়ে গেছি, তাই জানি কোন ধাপে মানুষের ধারণার চেয়ে বেশি সময় লাগে। সেটাই আমাদের বানানো প্রতিটা অ্যাপে কাজে লাগে।
Play Store-এ তুলতে চান এমন কোনো ভাবনা আছে? বলুন।
